themesdealer domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/onlinebangla24/news17.onlinebangla24.com/wp-includes/functions.php on line 6131মহাবীর আলেকজান্ডার দি গ্রেট (৩৫৬ খ্রিস্টপূর্ব-৩৩৩ খ্রিস্টপূর্ব) মাত্র ৩৩ বছরের জীবদ্দশায় বহু দেশ বহু রাজ্য জয় করেছিলেন। ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে সৃষ্টি করেছিলেন বহু পথ। কিন্তু সভ্যতা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে এবং মানবতার কল্যাণে তার কোনো আগ্রহই ছিল না। তার একটি বাণী ছিল আর তাহলো- ‘ধ্বংস আর মৃত্যুর মাধ্যমে বিজয় অর্জন কর’। সম্ভবত সেজন্য অর্থাৎ তার ধ্বংস ও নির্বিচারে মানব হত্যার নৃসংশ নির্মমতার প্রায়শ্চিত্ত করতে মৃত্যুার আগে তিনি তার সেনাপতিদের কাছে ডেকে বলেছিলেন, ‘আমার মৃত্যুর পর কফিন বহনের সময় আমার দুই হাত কফিনের বাহিরে ঝুলিয়ে রেখো।’ সেনাপতিরা তার এ অভিপ্রায়ের কারণ জানতে চাইলে তিনি মৃদৃ হেসে বলেন, ‘এই দৃশ্যের মধ্য দিয়ে আমি পৃথিবীর মানুষকে জানাতে চাই যে আমি শূন্য হাতেই এই পৃথিবীতে এসেছিলাম, আবার শূন্য হাতেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিচ্ছি।’ সুতরাং বুঝা যায় যে, কোনো কর্ম যদি মানবতার কল্যাণে না হয় তবে তার ফল শূন্য।
কিন্তু এ শূন্য অঙ্কটির রয়েছে অনন্য ও বহুমাত্রিক মান। বর্তমান আধুণিক বিজ্ঞানের বিষ্ময় কম্পিউটার তার কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য যে দুটি ডিজিট অনুসরণ করে তার মধ্যে শূন্য একটি। এছাড়াও শূন্য ডিজিট কল্পনা করে আমরা যে সুবিধাগুলো পেতে পারি সেগুলো হলো-
ক. যদি কোনো পজিটিভ পূর্ণ অঙ্ক/সংখ্যার ডানে শূন্য বসানো হয় তবে সে সংখ্যার/অঙ্কের মান বাড়ে।
খ. শূন্য সন্ত্রাসবাদ মানুবকূলকে সুখী করে।
গ. শূন্য দুর্নীতি একটি দেশ ও জাতির উন্নয়নের চাবিকাঠি।
ঘ. শূন্য স্বজনপ্রীতির হার মানুষের সমধিকার নিশ্চিতকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
ঙ. শূন্য বৈষম্য নারী-পুরুষের অর্থাৎ লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণে সাহায্য করে।
চ. শূন্য দারিদ্রতার হার মানুষের জীবন মান উন্নত করে।
ছ. শূন্য বেকারত্ব সমাজে অপরাধ প্রবণতা হ্রাস করে।
জ. শূন্য কার্বণ নিঃসরণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।
ঞ. সরকারি-বেসরকারি অফিসে শূন্য ভোগান্তির মাত্রা সেবাপ্রাপ্তির মান তুষ্ট করে।
ট. শূন্য রক্ষণাবেক্ষণ খরচ একটি পণ্য/দ্রব্যের/জিনিসের টেকসইতা নির্দেশ করে।
ঠ. শূন্য জামানতে কৃষি/ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে প্রদত্ত ঋণ আয় বৈষম্য হ্রাস করতে পারে।
ড. সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের প্রতি শূন্য সহিষ্ণুতা সুশাসনের জন্য সহায়ক।
শূন্য সংক্রান্ত উপর্যুক্ত ধারণাসমূহ পজেটিভ মান নির্দেশক। তবে শূন্য মানের কিছু নেগেটিভ দিকও রয়েছে। যেমন- কোনো শিক্ষার্থী যদি পরীক্ষার খাতায় শূন্য মার্কস পায় তবে তার একাডেমিক ক্যারিয়ার নিম্নগামী ধরে নেয়া হয়। আবার কোনো ক্রিকেটার যদি কোনো ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয় তবে তা হবে তার জন্য হতাশাজনক। এমনকি সে খেলোয়াড়ের পারফরমেন্সের জন্য পুরো দলের পরাজয়ের কারণ হতে পারে। শূন্য আয়ের একটি মানুষের পরিবারে সুখ নামক সোনার হরিণের দেখা কোনোকালে নাও মিলতে পারে। শূন্য মুনাফা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়তে পারে।
জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) যদি সমগ্র দুনিয়ার সব মানুষকে আধুনিক অস্ত্রের সাহায্যে মেরে ফেলে। মানব সভ্যতার সব নিদর্শন বিনষ্ট করে তবে তারা ধর্ম প্রচার করবে কার কাছে? কার মঙ্গলে? কোন সভ্যতা বিনির্মাণে তাদের কর্মযজ্ঞ প্রতিষ্ঠিত হবে? বরং কিছুই হবে না। সব শেষে অবশিষ্ট রইবে শুধু শূন্যতা। সুতরাং শূন্যতা সৃষ্টি করে নয়। বরং শূন্যতাকে মঙ্গলময় করে পরিপূর্ণতা দান করে সমাজ, রাষ্ট্র বা দেশ থেকে সকল অনাচার দূর করা সম্ভব। নেগেটিভ শূন্য মানকে পজিটিভ করে একটি জাতির মঙ্গল হতে পারে। শূন্যের অন্তর্নিহিত মান মানব মনে জাগ্রত করবার মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি, একটি দেশ তথা পুরো জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে সক্ষম হতে পারে।
লেখক : প্রভাষক, বিজনেস স্টাডিজ বিভাগ ও সহকারী প্রক্টর
নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী
ই–মেইল : shyamoluits@gmail.com
প্রথম দিনের আয়োজনের সূচনা হয় মণিপুরী নৃত্যের মাধ্যম। এই সম্প্রদায়ের জীবনের প্রতিটি পর্বেই রয়েছে মণিপুরী নৃত্যের উপলক্ষ্য। হোক তা বিবাহ, জন্ম কিংবা আর কোন উৎসব। নৃত্য ও সঙ্গীতের সঙ্গে যোগ নেই এমন মানুষ মণিপুরে দুর্লভ। উৎসব মণ্ডপে সাধারণের সঙ্গে মিলিত হন রাজ সভাসদগণ। সেদিন মণিপুরী পরিবেশন করেন ছায়ানটের শিল্পীবৃন্দ, তামান্না রহমান, নৃত্যম নৃত্যশীলন কেন্দ্র, ওয়ার্দা রিহাব, ধৃতি নর্তনালয়।
]]>এ নির্বাচনে ৩টি পদে কোন প্রতিদ্বন্দি না থাকায় সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল হাসান জুয়েল, দপ্তর সম্পাদক শুভ ইসলাম এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে এইচ আলিমকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষনা করা হয়। কার্যনির্বাহি ১৭টি পদের মধ্যে ৩টি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ১৪টি পদের বিপরীতে ২৬ জন লড়াই করেন। উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় ফলাফল ঘোষনা করা হয়।
১৬০ জন ভোটারের মধ্যে ১৫৬ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা ফলাফল প্রকাশ করার পর বিজয়ী সদস্যরা ভাষা আন্দোলন ও মাহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি কেন্দ্রী শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিশ্বে আরো ছড়িয়ে দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব পালন করেন চেয়ারম্যান মাহমুদুস সোবহান মিন্নু, সদস্য সাদেকুর রহমান সুজন ও কবির রহমান। নির্বাচনে নির্ধারিত পর্যবেক্ষকগণ ভোটগ্রহণকালে কক্ষ পরিদর্শন করেন।
অতএব; একটি জৈবিক চাহিদার গল্পের লেখক মজনু তালুকদার।
তিনদিন পর।
লেখক মজনু তালুকদারের ঠিকানায় ডাকযোগে একটি খাম আসে; তাতে দুই হাজার টাকাসহ একটি শুভেচ্ছা বার্তা, স্বয়ং সাহিত্য পাতার সম্পাদকের হাতে লেখা চিঠি এবং আরও বেশি বেশি লেখা পাঠানোর অনুরোধ। যা এই লেখককে আরেক রকমের গ্যাঞ্জামে ফেলে দেয়। সেলিমের চাচাতো ভাইয়ের মামাতো বোনের বান্ধবী হচ্ছে সেফালি। আত্মীয় দূরের হলেও পরিবারের যোগাযোগ অনেক দৃঢ়, সেই সুবাদে এই দুই পরিবারের মধ্যে আসা যাওয়া প্রায়শই হয়ে থাকে এবং এমন করেই সেলিমের প্রেম শুরু হয় সেফালির প্রতি, তাদের আর দোষ কী— এই রকম বয়সে প্রেম করাটা স্বাভাবিক বলে বর্ণনা করে গল্পের লেখক। মোহাম্মদ সেলিমের এইটাই একমাত্র এবং প্রথম প্রেম। কারণ হিসেবে বলা যায় যে, সেলিমকে কোনো মেয়ে পছন্দ করে না কিংবা সেলিম মোহাম্মদ সেই পছন্দের বিষয়টা বোঝে না অথবা প্রকৃত পক্ষে এই সেফালি বেগমকে ছাড়া আর কাউকে সেলিম ভাবতেই পারে না। এই না ভাবতে পারাটা এমনি এমনি হয় নাই, দুই পরিবারের মধ্যে বন্ধুত্বসুলভ আচরণ বিরাজ করায় সেলিম এবং সেফালি বেগম কাছাকাছি থাকার এবং সময় কাটানোর অনেক সময় পাইছে; পাড়ার লোকে কয় এইটা পরিবারের চালাকি! ওরা ইচ্ছা কইরা এইটা করছে, পরিবার নাকি চাইতো ওদের মধ্যে একটা বিবাহ হোক। তারও অনেক পরে, আরো অনেক সময় কেটে যাবার পর, সেলিম মোহাম্মদ সেফালিকে নিয়া বেড়াইতে যায়, চিনা বাদাম খায়, জলপাই কিংবা কূল বড়ই খায় আর খায় সেভেন আপ। সেফালি, সেলিমকে ভাই ভাই বলিয়া ডাকে, তাতে মাঝে মাঝে সেলিম বলে, ভাইয়া বলার দরকার কী? এইভাবে প্রেমের শুরু হয় মোহাম্মদ সেলিম আর সেফালি বেগমের আর সেই সাথে আমরা ঢুকে যাই একটি জৈবিক চাহিদার গল্পে। যদিও আমাদের মূল গল্প একটি জৈবিক চাহিদা নয় কিংবা সেলিম ও সেফালি বেগমও নয়— আমাদের গল্প মজনু তালুকদারকে নিয়ে!
এক এক করে তিন, সাড়ে তিন বছরের প্রেম সেফালির আর সেলিমের। এর মধ্যে নানান ধরনের বাধা আর যন্ত্রণা সইতে হয় সেলিমকে। সেলিম জানে ফুল চাইলে কাঁটা লাগবেই; এই কারণেই মুখ বুঝে সহ্য করেছে ছোট, বড়, অহেতুক, যৌক্তিক আর অযৌক্তিক সকল ঝামেলা। বস্তুত মোহাম্মদ সেলিম এই প্রথম প্রেমের প্রকৃত সুখ অনুভব করছে আর সেফালির সাথে এই বিষয়ে আলোচনায় সেফালি এমন করেই পাশ কাটাইয়া এমনভাবে নিজের নাক মুখ লজ্জায় লাল করিয়া ফেলে তাতে সেলিম নিজেই অপরাধবোধে পড়ে যায়। ফলে সেলিম নিজের মুখে সহস্রবার সেফালিকে আই লাভ ইউ
বলিলেও প্রতিউত্তরে সেফালির মুখ থেকে সেলিম কোনো দিন আই লাভ ইউ টু শোনে নাই। সেলিম মনে মনে হাসে; লজ্জা নারীর ভূষণ, প্রেমের বয়স আরেকটু হলেই হয়তো নিশ্চিত সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু সব কিছু ঠিকঠাক আর হলো না যখন মজনু তালুকদারের বন্ধু জালাল উদ্দিনের আবির্ভাব হয় দৃশ্যে।
জালাল কথা বলে না, চুপচাপ ব্যাপক চাপ নিয়ে রাগি-রাগি চোখে মজনুর দিকে তাকিয়ে থাকে আর মজনু বলে আমি কী করছি? আমার কী দোষ বল তুই? জালাল বলে হারামজাদা এই গল্প তুই পত্রিকায় ছাপাইছস কেন? মজনু বলে পত্রিকাওয়ালারা চাইলে আমি কী করমু? জালাল বলে এইটা কি আমি তোরে শিখাইয়া দিমু? তুই এইটা কী করছস? মজনু বলে পত্রিকা থাইকা অগ্রিম টাকাসহ চিঠি আসলে আমি কী করমু?
আসলেই সেলিমের আর কিছুই করার ছিল না, শুধু সেফালিকে একটা চুমু দিতে চাইছিল; জৈবিক চাহিদা বলে কথা। কিন্তু সেফালি কী করে একটা পরপুরুষকে চুমু খায় এই প্রশ্ন হয়তো সেফালির কাছে তখন প্রকট হয়ে দাঁড়ায়, ফলে আপাতত সেলিমকে চুমু বিষয়ক অভিজ্ঞতা থেকে বিরত থাকতে হয়। এই ঘটনার মাধ্যমে সেফালির প্রতি একই সাথে রাগ এবং ক্ষোভ তৈরি হয় সেলিমের, এবং সেই সাথে সেফালির ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে মোহাম্মদ সেলিম আরও বেশি বেশি প্রেমে পড়ে যায় সেফালি বেগমের। প্রেম চলতে থাকে। আর সম্পর্কে ফাটল ধরে মজনু আর জালালের। জালাল বলে প্রথমটা হইছে ভালো কথা কিন্তু পরে আবার দিলি ক্যান? মজনু কয় বাজারে চাহিদা থাকলে না দিয়া উপায় আছে?
উপায়-অন্ত না পাইয়া মোহাম্মদ সেলিম একদিন সেফালির বাড়িত্ যায়, সেফালির বাড়িতে কেউ ছিলও না; সেফালি মুরগিরে খাওন খাওয়াইতেছিল। সেলিম চুপি চুপি সেফালির পিছনে যাইয়া তারে জড়াইয়া ধরে আর বলে সেফু আমার সেফু। সেফালি কোনো রকমে ছাড়াইয়া দেয় সেলিমের হাত। সেলিমরে কয়, এতো অস্থির কেন? লোকে দেখলে কইবো কী? সেলিম কয় জৈবিক চাহিদা, করমু কী? করার আরো অনেক কিছুই ছিল; জালাল মজনুরে বোঝায়। জালাল কয় মজনু তোর নিয়ত ভালো না। তুই এখনই সব খুইলা বল লোকজনরে। মজনু কয় এখন এতো সাহস তুই কই পাইলি? এতো দিন কই ছিল এই সাহস? একা বাড়িতে সাহস দেখাইয়া কোনো লাভ হইলো না সেলিমের, এইবার সাহস কইরা বাড়িতে জানাইলোও সেলিম— ‘আমি সেফালিরে বিয়া করমু’। তারপরে ঘটনাটা আরো অনেক বড় কিন্তু এই গল্প যেহেতু মজনুর গল্প ফলে সেলিম আর সেফালির গল্পটা না জানলেও কোনো দোষ নাই।
সেফালির বিয়ের কথা ঠিক হইলে সেফালি বাড়ি ছাইড়া পালাইয়া যায়। সেলিম মনে দুঃখ পাইলো কিন্তু সেফালিরে ভুলে গেল না। সেফালির সন্ধানে সে শহর থেকে শহরে ঘুরে বেড়ায়। তবুও মজনু আর জালালের সমস্যা সমাধান হয় না। তারা দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসে। তর্ক এবং সমঝোতায় আসে। কিন্তু সেলিম আর সেফালির সমঝোতা আর হয় না। সমঝোতা করে নেয় সেফালি আর শরিফা। শরিফা সেফালির পুরানো স্কুল বান্ধবী। সেলিম বোঝে না কী করে সেলিমের স্থান দখল করে নিতে পারে শরিফা। জালালকে বোঝাতে থাকে মজনু। মজনুকে বোঝায় জালাল, বলে, তার খ্যাতির নেশায় পাইছে। একটি জৈবিক চাহিদার গল্পের লেখক মজনু তালুকদার, তাই মজনু চায় এই গল্পের লেখক মজনু তালুকদারই থাকবে। যেহেতু জালাল এই গল্পের লেখক হতে পারবে না আর কোনোদিন সেইজন্য মজনু এই গল্প অন্য পত্রিকায় ছাপতে দিছিল নিজের নামে; তাছাড়া পত্রিকাওয়ালা অগ্রিম টাকাসহ চিঠি পাঠালে মজনু কী করবে? যদিও একটি জৈবিক চাহিদার গল্পের প্রকৃত লেখক জালাল সরকার। ফলে এই যে সেলিম মোহাম্মদ আর সেফালি বেগমের গল্প, এইটা হতে পারতো কোনো এক কঠিন প্রেম কাহিনীর গল্প, হয়ে উঠতে পারতো কোনো সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনে গল্প কিংবা হয়ে উঠতে পারতো এক নিছক অবুঝ প্রেম কাহিনী কিন্তু তা না হয়ে, বাজার চাহিদা প্রয়োজনে হয়ে গেল একটা সমকামিতার গল্প। আর এই জন্যই কি জালাল তার বন্ধু মজনুর নাম এবং ঠিকানার আশ্রয় নেয়?
এই ঘটনা যখন এলাকার লোকজনের কানে পৌঁছলো তখন তারা একটা বিচারের আসর বসালো। মজনু এবং জালাল দুজনকেই ডাকলো। সেই সাথে পূর্ব বাঘমারায় বসবাসকারী মর্জিনাকে ডেকে নিয়ে আসলো, মজির্নার সাথে ছিল তার স্কুল জীবনের বান্ধবী মিস বিউটি আক্তার এবং আরো অনেকেই। সেই বিচার আসর শুরু হইলো এবং বিচারকগণ মর্জিনারে জিজ্ঞেস করলো: জালাল মিয়ারে তুমি চিনো? দেখ তো এই পোলাটাই কি তোমারে ফোন কইরা ডিস্টার্ব দেয় নাকি? কলেজে আইতে যাইতে ডিস্টাব দিছে কুনো দিন?
মর্জিনা মুখ তুলে জনসম্মুখে তাকালো, জালাল আর মজনুরে দেখলো; সভা সম্মুখে মর্জিনা বইলা উঠলো, জালাল কোনটা? আমি তো শুধু মজনু ভাইয়াকে চিনি!
]]>