Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the themesdealer domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/onlinebangla24/news17.onlinebangla24.com/wp-includes/functions.php on line 6131

Warning: Cannot modify header information - headers already sent by (output started at /home/onlinebangla24/news17.onlinebangla24.com/wp-includes/functions.php:6131) in /home/onlinebangla24/news17.onlinebangla24.com/wp-includes/feed-rss2.php on line 8
শিল্প সাহিত্য – news17.onlinebangla24.com https://news17.onlinebangla24.com Tue, 27 Feb 2024 04:38:07 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.10 শূন্য মানের বহুমাত্রিকতা https://news17.onlinebangla24.com/?p=8031 Fri, 27 Nov 2015 13:55:27 +0000 http://jamunanewsbd.com/?p=8031 শূন্য (০) ডিজিটের নিজস্ব কোন মান নেই। তবে এ অঙ্কটি/সংখ্যাটি অন্য একটি অঙ্ক যেমন ১-৯ পর্যন্ত যেকোন অঙ্কের ডানে বসে তা সে অঙ্কের/সংখ্যার মান বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ভারতবর্ষে আবিস্কৃত (০) এ অঙ্কটির যেমন রয়েছে পজিটিভ ধারণা তেমনি রয়েছে এর নানাবিধ নেগেটিভ ধারণা। বিভিন্ন উদাহরণের সাহায্যে শূন্য মানের বহুমাত্রিক রূপ তুলে ধরা হলো।

মহাবীর আলেকজান্ডার দি গ্রেট (৩৫৬ খ্রিস্টপূর্ব-৩৩৩ খ্রিস্টপূর্ব) মাত্র ৩৩ বছরের জীবদ্দশায় বহু দেশ বহু রাজ্য জয় করেছিলেন। ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে সৃষ্টি করেছিলেন বহু পথ। কিন্তু সভ্যতা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে এবং মানবতার কল্যাণে তার কোনো আগ্রহই ছিল না। তার একটি বাণী ছিল আর তাহলো- ‘ধ্বংস আর মৃত্যুর মাধ্যমে বিজয় অর্জন কর’। সম্ভবত সেজন্য অর্থাৎ তার ধ্বংস ও নির্বিচারে মানব হত্যার নৃসংশ নির্মমতার প্রায়শ্চিত্ত করতে মৃত্যুার আগে তিনি তার সেনাপতিদের কাছে ডেকে বলেছিলেন, ‘আমার মৃত্যুর পর কফিন বহনের সময় আমার দুই হাত কফিনের বাহিরে ঝুলিয়ে রেখো।’ সেনাপতিরা তার এ অভিপ্রায়ের কারণ জানতে চাইলে তিনি মৃদৃ হেসে বলেন, ‘এই দৃশ্যের মধ্য দিয়ে আমি পৃথিবীর মানুষকে জানাতে চাই যে আমি শূন্য হাতেই এই পৃথিবীতে এসেছিলাম, আবার শূন্য হাতেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিচ্ছি।’ সুতরাং বুঝা যায় যে, কোনো কর্ম যদি মানবতার কল্যাণে না হয় তবে তার ফল শূন্য।

কিন্তু এ শূন্য অঙ্কটির রয়েছে অনন্য ও বহুমাত্রিক মান। বর্তমান আধুণিক বিজ্ঞানের বিষ্ময় কম্পিউটার তার কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য যে দুটি ডিজিট অনুসরণ করে তার মধ্যে শূন্য একটি। এছাড়াও শূন্য ডিজিট কল্পনা করে আমরা যে সুবিধাগুলো পেতে পারি সেগুলো হলো-
ক. যদি কোনো পজিটিভ পূর্ণ অঙ্ক/সংখ্যার ডানে শূন্য বসানো হয় তবে সে সংখ্যার/অঙ্কের মান বাড়ে।
খ. শূন্য সন্ত্রাসবাদ মানুবকূলকে সুখী করে।
গ. শূন্য দুর্নীতি একটি দেশ ও জাতির উন্নয়নের চাবিকাঠি।
ঘ. শূন্য স্বজনপ্রীতির হার মানুষের সমধিকার নিশ্চিতকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
ঙ. শূন্য বৈষম্য নারী-পুরুষের অর্থাৎ লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণে সাহায্য করে।
চ. শূন্য দারিদ্রতার হার মানুষের জীবন মান উন্নত করে।
ছ. শূন্য বেকারত্ব সমাজে অপরাধ প্রবণতা হ্রাস করে।
জ. শূন্য কার্বণ নিঃসরণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।
ঞ. সরকারি-বেসরকারি অফিসে শূন্য ভোগান্তির মাত্রা সেবাপ্রাপ্তির মান তুষ্ট করে।
ট. শূন্য রক্ষণাবেক্ষণ খরচ একটি পণ্য/দ্রব্যের/জিনিসের টেকসইতা নির্দেশ করে।
ঠ. শূন্য জামানতে কৃষি/ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে প্রদত্ত ঋণ আয় বৈষম্য হ্রাস করতে পারে।
ড. সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের প্রতি শূন্য সহিষ্ণুতা সুশাসনের জন্য সহায়ক।

শূন্য সংক্রান্ত উপর্যুক্ত ধারণাসমূহ পজেটিভ মান নির্দেশক। তবে শূন্য মানের কিছু নেগেটিভ দিকও রয়েছে। যেমন- কোনো শিক্ষার্থী যদি পরীক্ষার খাতায় শূন্য মার্কস পায় তবে তার একাডেমিক ক্যারিয়ার নিম্নগামী ধরে নেয়া হয়। আবার কোনো ক্রিকেটার যদি কোনো ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয় তবে তা হবে তার জন্য হতাশাজনক। এমনকি সে খেলোয়াড়ের পারফরমেন্সের জন্য পুরো দলের পরাজয়ের কারণ হতে পারে। শূন্য আয়ের একটি মানুষের পরিবারে সুখ নামক সোনার হরিণের দেখা কোনোকালে নাও মিলতে পারে। শূন্য মুনাফা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়তে পারে।

জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) যদি সমগ্র দুনিয়ার সব মানুষকে আধুনিক অস্ত্রের সাহায্যে মেরে ফেলে। মানব সভ্যতার সব নিদর্শন বিনষ্ট করে তবে তারা ধর্ম প্রচার করবে কার কাছে? কার মঙ্গলে? কোন সভ্যতা বিনির্মাণে তাদের কর্মযজ্ঞ প্রতিষ্ঠিত হবে? বরং কিছুই হবে না। সব শেষে অবশিষ্ট রইবে শুধু শূন্যতা। সুতরাং শূন্যতা সৃষ্টি করে নয়। বরং শূন্যতাকে মঙ্গলময় করে পরিপূর্ণতা দান করে সমাজ, রাষ্ট্র বা দেশ থেকে সকল অনাচার দূর করা সম্ভব। নেগেটিভ শূন্য মানকে পজিটিভ করে একটি জাতির মঙ্গল হতে পারে। শূন্যের অন্তর্নিহিত মান মানব মনে জাগ্রত করবার মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি, একটি দেশ তথা পুরো জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে সক্ষম হতে পারে।

লেখক : প্রভাষক, বিজনেস স্টাডিজ বিভাগ ও সহকারী প্রক্টর
নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী
ই–মেইল : shyamoluits@gmail.com

]]>
ছায়ানটে উৎসবের রঙ https://news17.onlinebangla24.com/?p=7489 Wed, 18 Nov 2015 10:00:43 +0000 http://jamunanewsbd.com/?p=7489 ঢাকা: লাল ভবনের সামনেই পোস্টার, ব্যানার আর উৎসুক মানুষ দাঁড়িয়ে। কখন যেতে দিবে ভেতরে, কখন শুরু হবে উৎসবের সেই ক্ষণ। এমনই দৃশ্য ছিল দুদিনই ছায়ানটের সামনে। হবে নাই বা কেন। শুরু হয়েছিল ছায়ানট নৃত্য উৎসব ১৪২২। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আগত শিল্পীদের এমন শাস্ত্রীয় নৃত্যের আয়োজনে মেতে ছিলেন শিল্পী-দর্শক-আয়োজকেরা। ছিলো মণিপুরী, ভরতনাট্যম, ওড়িষা, গৌড়ীয় নৃত্য, কত্থকসহ নানান আঙ্গিকের নৃত্যশৈলীর পরিবেশনা।

প্রথম দিনের আয়োজনের সূচনা হয় মণিপুরী নৃত্যের মাধ্যম। এই সম্প্রদায়ের জীবনের প্রতিটি পর্বেই রয়েছে মণিপুরী নৃত্যের উপলক্ষ্য। হোক তা বিবাহ, জন্ম কিংবা আর কোন উৎসব। নৃত্য ও সঙ্গীতের সঙ্গে যোগ নেই এমন মানুষ মণিপুরে দুর্লভ। উৎসব মণ্ডপে সাধারণের সঙ্গে মিলিত হন রাজ সভাসদগণ। সেদিন মণিপুরী পরিবেশন করেন ছায়ানটের শিল্পীবৃন্দ, তামান্না রহমান, নৃত্যম নৃত্যশীলন কেন্দ্র, ওয়ার্দা রিহাব, ধৃতি নর্তনালয়।

]]>
বগুড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ময়না সম্পাদক সাঈদ https://news17.onlinebangla24.com/?p=2205 Fri, 31 Jul 2015 18:51:28 +0000 http://gtbnews24.com/?p=2205 বগুড়া সংবাদদাতা : উৎসবের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো বগুড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন। গতকাল শুক্রবার নির্বাচনে সভাপতি পদে তৌফিক হাসান ময়না এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আবু সাঈদ সিদ্দিকী নির্বাচিত হন। এছাড়া সহ সভাপতি পদে আব্দুল¬াহেল কাফি তারা, আতিকুর রহমান মিঠু এবং বাকি দুটি পদে সমান সংখ্যাক ৪ প্রার্থী ভোট পেলে লটারীর মাধ্যমে মতিয়ার রহমান, আসাদ হোসেন নির্বাচিত হন। সহ সাধারণ সম্পাদক পদে আলমগীর কবির ও গৌতম কুমার দাস, অর্থ সম্পাদক জাহেদুর রহমান মুক্তা, নির্বাহী সদস্য ৫টি পদে শাহানাজ পারভিন, আসাদুর রহমান খোকন, প্রণব কান্ত স্যানাল, হাকীম মজিদ মিয়া ও আব্দুল আউয়াল নির্বাচিত হয়েছেন।

এ নির্বাচনে ৩টি পদে কোন প্রতিদ্বন্দি না থাকায় সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল হাসান জুয়েল, দপ্তর সম্পাদক শুভ ইসলাম এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে এইচ আলিমকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষনা করা হয়। কার্যনির্বাহি ১৭টি পদের মধ্যে ৩টি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ১৪টি পদের বিপরীতে ২৬ জন লড়াই করেন। উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় ফলাফল ঘোষনা করা হয়।

১৬০ জন ভোটারের মধ্যে ১৫৬ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা ফলাফল প্রকাশ করার পর বিজয়ী সদস্যরা ভাষা আন্দোলন ও মাহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি কেন্দ্রী শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিশ্বে আরো ছড়িয়ে দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব পালন করেন চেয়ারম্যান মাহমুদুস সোবহান মিন্নু, সদস্য সাদেকুর রহমান সুজন ও কবির রহমান। নির্বাচনে নির্ধারিত পর্যবেক্ষকগণ ভোটগ্রহণকালে কক্ষ পরিদর্শন করেন।

]]>
দাউদ ইব্রাহিমের সাক্ষাৎকার https://news17.onlinebangla24.com/?p=2157 Fri, 31 Jul 2015 06:52:28 +0000 http://gtbnews24.com/?p=2157 দাউদ ইব্রাহিমের সাক্ষাৎকার
দাউদ ইব্রাহিম। মুম্বাই হামলায় অভিযুক্ত অন্যতম আসামি এই ৩৮ বছর বয়সী মাফিয়া ডন। সম্প্রতি মুম্বাই হামলায় অপর এক অভিযুক্ত ইয়াকুব মেমনকে ভারত সরকার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। আর এই বিষয়াদি নিয়েই ফোনে মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে কথা হয় ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের সিনিয়র কপি এডিটর শিলা ভাটের সঙ্গে। বাংলামেইলের পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি অনুবাদাকারে তুলে ধরা হলো:
ইয়াকুব মেমনের গ্রেপ্তার আপনাকে কি প্রভাবিত করেছে?
আমি খুশি যে সে ধরা পড়েছে। অন্তত তদন্ত প্রক্রিয়া এখন সঠিক লাইনে আগাচ্ছে।
আপনিই কি তাকে ভারতে পাঠিয়েছিলেন?
আমি কেন তাকে পাঠাতে যাবো? আমার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। জীবনে আমি কোনোদিন তার চেহারাও দেখিনি।
আপনি কি ইয়াকুবকে আত্মসমর্পণ করতে বলেছিলেন যাতে আপনার উপর থেকে দায় সরে যায়?
ইয়াকুবতো আপনাদের কাছেই আছে, তাকেই কেন জিজ্ঞেস করছেন না? যখন আমি এই সংবাদটি পাই তখন আমি আমার দায় নিয়ে ভেবেছিলাম। মনে আছে, ইয়াকুব জাতির সামনে টেলিভিশনে বলেছিল যে সে আমাকে কখনো দেখেইনি।
তাহলে কীভাবে তার স্বীকারোক্তি আপনার সকল অপরাধকে পরিষ্কার করলো?
কেউ একবার বললো যে দাউদ ইব্রাহিম একজন নিরীহ মানুষ। তখনই অন্যরা বলবে যে, ওই মানুষটি নিশ্চয়ই দাউদ ইব্রাহিমের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে একজন অফিসারের সঙ্গে আমার অনেক আলাপ আলোচনা হয়েছে। তিনি আমাকে বলেন, ‘আমার সংস্থা বিশ্বাস করে যে এই কেসের সঙ্গে তুমি যুক্ত নও। যদি আমি এর বেশি কিছু বলি তাহলে আজই আমাকে পদত্যাগ করতে হবে। আর আমি যদি পদত্যাগ না করি, তাহলে তারা আমাকে বরখাস্ত করবে।’
কিন্তু এটাতো নিশ্চিত যে সবসময়ই শুধু শুধু কোনো কারণ ছাড়াই বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে আপনার নাম জড়িয়ে যায়নি।
এটা আসলে রাজনৈতিক কারণ। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন, আমার বিরুদ্ধে তাদের হাতে কী প্রমাণাদি আছে। কাউকে চেনা অবশ্যই অপরাধ নয়। আমি মনে করি, আমি শারদ পাওয়ার এবং এসবি চ্যাবনের রাজনীতির শিকার।
কিন্তু অভিযোগ আছে যে পাওয়ার আপনার বন্ধু।
আমরা না বন্ধু, না শত্রু। মিডিয়া যখনই বলা শুরু করলো যে দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে পাওয়ারের যোগাযোগ আছে, তখনই মূলত প্রধানমন্ত্রী পুলিশকে ওই কেসে আমাকে জড়াতে নির্দেশ দেন। কিন্তু চ্যাবন কুৎসা রটিয়ে এটা প্রমাণ করবার চেষ্টা করে যে এই কেসে আমার সংশ্লিষ্টতা আছে এবং আমার সঙ্গে পাওয়ারের যোগাযোগ আছে। এই বক্তব্যগুলো তাকে পর্যাপ্ত রসদ দেবে পাওয়ারকে উৎখাত করতে। সুতরাং তারা দু’জনেই তাদের নিজেদের স্বার্থের জন্য আমাকে ব্যবহার করছে।
১৯৯৩ সালের ১২ মার্চ মুম্বাই বোমা বিস্ফোরণের সময় আপনি কোথায় ছিলেন?
আমি তখন বাসাতেই ছিলাম এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসছিল। সিন্ধি, মুসলিম, গুজরাটিরা ফোন করছিল আমাকে। আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম ঘটনায়। কিন্তু যখন গাড়িটি আবিষ্কৃত হলো তখন আমি এই ভেবে নিশ্চিত হলাম যে আমার ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আমি তখনই ভেবেছিলাম সত্যি একদিন উদঘাটিত হবেই। হঠাৎ করেই আমি জানতে পারি জেরা করবার সময় দাউদ টাকলু নামের একজন আমার নাম নিয়েছিল। তখন থেকেই পত্রিকাগুলো মুম্বাই পুলিশ প্রধান শর্মাকে আমার সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শুরু করে। তিনি কিছুই বলেননি।
আপনি কি টাইগার মেমনকে চেনেন?
সে প্রায়শই দুবাই আসতো। কিন্তু তার সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক লেনদেন নেই। মুম্বাইয়ে যারা ধান্দা করে তাদের যেমন চিনি, তেমনি তাকেও চিনি। আমার সঙ্গে তার কয়েকবার দেখা হয়েছিল।
কিন্তু টাইগার এবং আপনারতো একই ধরনের ব্যবসা।
পুলিশকে টাইগার মেমনের যাবতীয় তথ্যাদি বের করতে বলুন এবং আমার সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল তার প্রমাণ দিক। যদি তথ্য প্রমাণাদি পাওয়া যায়, তখন যে অভিযোগ ইচ্ছে সেটাই আমার বিরুদ্ধে আনা হোক।
তাহলে আপনি কি বলতে চাচ্ছেন যে, মুম্বাই বোমা হামলায় আপনার কোনো হাত নেই?
হ্যাঁ, বিশ্বাস করুন আমার সঙ্গে বোমা হামলার কোনো যোগাযোগই নেই।
ইয়াকুব মেনন বলেছে যে ওই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হলো ‘আইএসআই’। আপনার সঙ্গে আইএসআই এবং তৌফিক জালিওয়ালার সম্পর্ক কী?
আমি আইএসআই সম্পর্কে কিছু জানি না। গত দশ বছর ধরে জালিওয়ালাকে দুবাইয়ের একজন ব্যবসায়ী হিসেবেই জানি আমি।
আমার জানি যে জালিওয়ালা একজন আইএসআই সদস্য। আপনি কি এ ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন?
আমি যদি সত্যিই জানতাম যে তিনি একজন আইএসআই সদস্য, তাহলে আমি কেন তার বিয়ের সময় যাবো, যেখানে বোমা হামলার কেসের সঙ্গে আমার নাম জড়িয়ে আছে। অথবা, কেনই বা আমি বিয়েতে আমাকে ভিডিও করতে দেবো?
আপনি টাইগার মেমন, জালিওয়ালা এবং মুম্বাইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডকে জানেন। আপনার কি মনে হয় মুম্বাই বোমাহামলার সঙ্গে পাকিস্তান এবং মেমনেরা জড়িত?
আমি বিশ্বাস করি টাইগার মেমন এর সঙ্গে জড়িত। কারণ তার নিজের ভাইও তাই বলেছে।
কিন্তু টাইগার মেমন একা এত বড় একটা ঘটনা ঘটাতে পারে না। কীভাবে আপনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করবেন?
টাইগার এবং তার ভাই এই বোমাহামলার পেছনে আছে। সুতরাং ঠিক কী ঘটেছে তা একমাত্র তারাই সবচেয়ে ভালো বলতে পারবে।
বোমা হামলায় ৩০০ মানুষ হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত আপনি। তদন্ত আপনার দিকেই নির্দেশ করছে।
বেশ, আমি যে নিরীহ সেটা প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম আমি করেছি। কিন্তু আমি জানি না সেই কথাটা জোর করে আমাকে দিয়ে বলানো যাবে না।
বোমা হামলার ওই সময়টায় পশ্চিম ভারতে আপনার যোগাযোগ বেশ ভালো ছিল।
আমার কতজন মানুষ ওই বোমাহামলায় জড়িত ছিল?
পুলিশ যা বলে সেটাই আমাদের বিশ্বাস করতে হয়। কিন্তু আপনি যদি নিজেকে নিরীহ প্রমাণ করতে চান তাহলে আপনাকে বলতে হবে যে এই বোমাহামলার পেছনে কে।
টাইগার মেমন যখন এই মামলায় অভিযুক্ত তখন আমার কী বলার থাকতে পারে।
টাইগারের পেছনে কে?
সেটা আপনি তার ভাইকে কেন জিজ্ঞাসা করছেন না?
আপনি যদি নিরীহই হয়ে থাকেন, তাহলে কেন আত্মসমর্পণ করছেন না?
আমি আত্মহত্যা করতে চাই না। এই তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই পুলিশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাকে এর সঙ্গে জড়ানোর এবং এরপর তারা আমার বিরুদ্ধে প্রমাণ তৈরি করতে শুরু করে। আমি কখনোই আমার জীবনে এরকম ভীরুতার কাজ করিনি। যদি আমি কিছু করতামই তাহলে এভাবে করতাম না। আমি তাদের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ নিতাম যারা সহিংসতা এবং দাঙ্গার সঙ্গে জড়িত, সাধারণ মানুষরা নয়।
বোমাহামলায় আপনি কি অর্থায়ন করেছিলেন?
আমি একটা পয়সাও দেইনি। দেখুন, আমি গ্যাং ওয়ার এবং চোরচালানির মানুষ। আমি কীভাবে এই জাতীয় পরিকল্পনা সম্পর্কে জানবো।
কিন্তু তারাতো চোরাচালানিদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছে।
আপনি কী বলছেন? পুলিশের মতো কথা বলা বন্ধ করুন। আমি একটা চূড়ান্ত অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। তারা আমাকে ইঁদুরের মতো তাড়া করছে। আমি ফাঁদে আটকা পড়ে আছি, কোথাও যেতেও পারছি না।
ইয়াকুব কিন্তু এটাও বলেছে যে আপনি জালিওয়ালার সঙ্গে জড়িত।
জালিওয়ালা একজন ব্যবসায়ী এবং চোরাচালানি। আমি দুবাইয়ের সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব রক্ষা করি। আমি শুধু মুসলিম হওয়ার কারণেই কি শুধু পাকিস্তানীদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ থাকতে হবে?
আপনি কি মনে করেন বোমাহামলার পেছনে জালিওয়ালা আছে?
আমি তার সম্পৃক্ততা সম্পর্কে কখনো কিছু শুনিনি। বাস্তবে, আমি এটা জানতে পেরে অবাক হয়েছিলাম।
আপনি কি দুবাইয়ে নজরদারির মধ্যে আছেন?
দুবাইয়ের মানুষ আমাকে সমর্থন করে। কিন্তু ভারতীয়দের পক্ষ থেকে চাপ আছে। ভারতীয় গণমাধ্যম ইতোমধ্যেই আমাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে এবং সরকার যা বলে তারা শুধু সেটাই লেখে।
মুম্বাইয়ে কি আপনার কোনো সম্পত্তি আছে?
সেখানে আমার বাবা-মা এবং ভাইদের সম্পত্তি আছে।
বেনামি সম্পত্তি সম্পর্কে কী বলবেন?
কেন, মুম্বাই ছাড়া কি আর কোথাও বেনামি সম্পত্তি কেনার জায়গা নেই? আমি যেখানে বৈধভাবেই সম্পত্তি কিনতে পারি সেখানে কেন বেনামি সম্পদ কিনবো। আর আমি কেনই বা কোটি টাকার সম্পদ অন্য কোনো মানুষের নামে লিখে দিয়ে আসবো।
মানুষ মনে করে আপনি পাওয়ারের লোক।
না, আমি পাওয়ারের লোক নই। এমনকি চ্যাবনের সঙ্গেও আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আপনি যদি মনে করেন আমার সম্পদের পাহারাদার হলো পাওয়ার তাহলে আপনারা সেটা নিয়ে নিন। আমি সেটা লিখে দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।
বলা হয় মুম্বাই দাঙ্গা আপনাকে খুব নাড়া দিয়েছিল এবং সেখান থেকেই আপনি প্রতিশোধ নিতে চাইছিলেন…
ওই দাঙ্গাগুলো নিয়ে গোটা বিশ্বই কথা বলেছে, আপনি কেন শুধু আমাকেই বলছেন কথাগুলো। প্রতিশোধ নেয়ার কিছু নেই। আগেও ভারতে অনেক দাঙ্গা হয়েছে। কোনো পুলিশ রেকর্ডে কি বলা আছে যে, ওই দাঙ্গাগুলোর একটির সঙ্গেও আমি জড়িত ছিলাম?
তাহলে কেন পুলিশ আপনাকে এই মামলায় জড়াচ্ছে?
কারণ আমি একজন মুসলিম। সম্প্রদায়ে আমার একটা নাম আছে। আমাকে বাদ দিন, একজন মুসলিম মেথরেরও যদি নাম হয়, তাহলে তাকেও অভিযোগে অভিযুক্ত করা হবে। তারা এটা সহ্য করবে না।
কারা সহ্য করবে না?
যারা সাম্প্রদায়িক।
যেমন?
বাল ঠ্যাকারের মতো অনেকেই আছেন। দেখুন তিনি খোলাখুলিই বলেছেন, ‘আমরা মসজিদটি ধ্বংস করেছি’। ওই কারণে ৬০০ প্রাণ নষ্ট হয়েছিল। তিনিতো চারিদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আর আমাকে এখানে বলতে হচ্ছে যে, আমি বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত নই। কিন্তু মুসলিম হওয়ার কারণে কেউ তা বিশ্বাস করছে না।
মুম্বাই দাঙ্গার পর আপনি হয়তো হিন্দুদের ওপর মুসলিম জঙ্গিদের দিয়ে প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন। ১৯৯৩ সালের ১০ জানুয়ারি আপনার বাসভবনে একটি আলোচনা সভা হয়েছিল।
আবহাওয়াটা ছিল খুব স্পর্শকাতর এবং মানুষ ছিল উদ্বিগ্ন। দুবাইতেও বোমাহামলায় শিকারদের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছিল। আপনি এধরনের মিটিংকে বোমাহামলার পরিকল্পনা বলছেন?
আপনি বলতে চাচ্ছেন যে, আপনার বাসার ওই আলোচনা সভায় আপনি ছিলেন না?
সবাই এটা নিয়ে কথা বলছিল সেসময়। এমনকি দুবাইতেও এটা বড় আলোচনার বিষয় ছিল। গোটা বিশ্ব মুম্বাই নিয়ে কথা বলছিল। আমি আমার জীবনে কখনও আরডিএক্স দেখিনি।
আচ্ছা আরেকবার এবং শেষবারের মতো আমাদের বলুন যে, আপনার সঙ্গে কি পাওয়ারের কোনো সম্পর্ক আছে?
যদি তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্কই থাকতো তাহলে তিনি আমাকে রক্ষা করতেন।
ভাই ঠাকুরের মাধ্যমে এর আগেতো তার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক ছিল।
দয়া করে এসব বন্ধ করুন। আমাকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করবেন না।
আপনার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কিছু বলুন।
আমি উর্দু মাধ্যমে এসএসসি পাস করেছি। গত নয়বছর হয় আমি বিয়ে করেছি এবং আমার তিন কন্যা এবং এক ছেলে আছে।
আপনার বর্তমান উপার্জন কত?
অতীত থেকেই আমার পর্যাপ্ত অর্থ ছিল। আপনি কি কোনো ডোনেশন চান?
আপনি কি রাজনৈতিক দলগুলোকে ডোনেশন দেন?
কংগ্রেস বাদে সব দলকে ডোনেশন দেই।
দিল্লিতে আপনার যোগাযোগ আছে?
আমাকে কেন এসব জিজ্ঞেস করছেন? আমি এমনিতেই ঝামেলায় আছি। আমাকে এই সমস্যা থেকে বের হতে দিন এরপর আমি আপনার সঙ্গে অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারবো।
ভারত সরকার বলছে যে আপনি পাকিস্তানী।
ভারত সরকার সবসময়ই এসব কথা বলে আসছে। আমি পাকিস্তানে কখনও থাকিনি কিন্তু প্রায়ই সেখানে যাওয়া হয়।
আপনি কি পাকিস্তানে থাকেন?
আপনি কেন আমার পেছনে লেগেছেন। আমাকে শান্তিতে থাকতে দিন। আমার মাথার উপর একটা ছাদ দিন। আমি পাকিস্তানে যেতেই থাকবো।
কিন্তু কীভাবে? আপনিতো সাধারণ মানুষের মতো ভ্রমণ করতে পারেন না।
আপনি বাজি ধরতে চান, পৃথিবীর যেখানে বলবেন সেখানেই আমি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারবো।
কিন্তু আপনিতো লন্ডন অথবা জেনেভাতে যেতে পারেন না। কারণ ভারত সরকার তাদের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তি করেছে।
আমি অফিসিয়ালি কোথাও যাই না। তবে আমি যদি কোনো স্থানে যাই তাহলে কী সমস্যা? আমি সর্বদা সেখানেই যাবো যেখানে বন্দিবিনিময় চুক্তি নেই।
আপনার সর্বশেষ ছবিতে অনেক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কেন?
কিছুই পাল্টায়নি। শুধুমাত্র গোঁফটা আর নেই।
আপনি যেমনটা দাবি করেন যে, আপনি নির্দোষ। তাহলে কেন আপনি মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলছেন না। খাইরনামতো সবার সঙ্গে কথা বলছে।
খাইরনাম সকলের সঙ্গে কথা বলছে এবং তাকে নিরাপত্তাও দেয়া হচ্ছে। আর গোটা বিশ্ব জানে যে সে যা বলছে তার সবই মিথ্যা।
ওই মিথ্যেগুলো কী?
সে যে দালানটিই ধ্বংস করে, সেটাই নাকি দাউদ ইব্রাহিমের। কোটি রূপির যেকোনো সম্পদই আমার, সেটাই সে মনে করে। সে মাত্র দাউদ ইব্রাহিমের একটি দালান ধ্বংস করেছে, অথচ ওই একটিকেই সে একের পর এক বাড়িয়ে যাচ্ছে। মুম্বাইয়ে অনেক মুসলিমকে গৃহহীন করার জন্য সে দায়ী।
আপনার কি মনে হয় ভারত সাম্প্রদায়িক আচরণ করছে?
হ্যাঁ, তাদের মধ্যে অনেকেই সাম্প্রদায়িক।
যেমন?
বাল ঠ্যাকারে এবং মুম্বাই পুলিশ পুরোপুরি সাম্প্রদায়িক। তারা আমার পেছনে লেগেছে কারণ আমি একজন মুসলিম। অন্য কেউ আমার মতো নাম অর্জন করেনি এবং এই কারণেই তারা আমাকে উপড়ে ফেলতে চায়। তাদের মধ্যে কেউ ভীত এই ভেবে যে আমি মুসলিমদের সর্বোচ্চ নেতা না হয়ে যাই!
আপনি এখন কী চান?
বিচার। আমি ভারতের জনগণের সামনে বিচার চাই। মৃত্যু আসবেই, আর তা একবারই। আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। কিন্তু আমি মিথ্যে প্রমাণকে ভয় পাই। আমি আপনাকে আবারও বলছি পুলিশ আরও একটা মিথ্যে ঘটনা ঘটালো। আমি ওই মামলার লম্বা চার্জশিট পড়েছি, সেখানে বলা হয়েছে যে আমার সঙ্গে দুবাইয়ে তারা দেখা করেছিল। ভারতে আমার দুই হাজার মানুষ আছে। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারি না? সুএ:বাংলামেইল২৪ডটকম

]]>
একটি জৈবিক চাহিদার গল্প | এমদাদুল হক https://news17.onlinebangla24.com/?p=1654 Thu, 16 Jul 2015 20:43:17 +0000 http://gtbnews24.com/?p=1654 একটি জৈবিক চাহিদার গল্প; রাতারাতি চারিদিকে হৈচৈ ফেলে দেয়। গল্পকারের নতুন আগমন হয় বাংলা সাহিত্যে! তাও আবার একরাতের মধ্যে। সেফালির প্রেমে যখন হাবুডুবু খায় সেলিম মোহাম্মদ তখন এলাকায় একটা কানাঘুষা চলতে থাকে, অনেকে মেনে নেয় বিষয়টা আবার অনেকে মোটেও মানতে পারে না। কেন সেলিম সেফালির সাথে প্রেম করবে সেইটা একটা প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়! যাই হোক। একটি জৈবিক চাহিদার গল্প যখন চারিদিকে হৈ চৈ ফেলে দিলো তখন এই গল্পের লেখক এক ধরনের গ্যাঞ্জাম মোকাবেলায় ব্যস্ত। পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকী পাতায় এই গল্প ছাপালে শুধুই যে সাহিত্য মহলে একটা নাড়াচাড়া পড়ে যায় তা নয়; আবাল বৃদ্ধা বনিতা এবং ছাত্র কিশোর যুবা, শিক্ষিত অর্ধ শিক্ষিত এমনকি আমাদের পাড়ার চা বিক্রেতা বাচ্চু এই লেখক এবং গল্পের দ্বারা বিচলিত হয়। বাচ্চু ভেবেই পায় না এমন একটা ঘটনা কী করে ঘটে পৃথিবীতে, আর কী করে একজন মানুষ এমন একটা গল্প বয়ান করতে পারে। গল্প লেখকের নাম মজনু তালুকদার; আপাতত এইটুকুই আমরা জানি, সাহিত্য সাময়িকী পাতায় এই রকমই লেখা।

অতএব; একটি জৈবিক চাহিদার গল্পের লেখক মজনু তালুকদার।

তিনদিন পর।

লেখক মজনু তালুকদারের ঠিকানায় ডাকযোগে একটি খাম আসে; তাতে দুই হাজার টাকাসহ একটি শুভেচ্ছা বার্তা, স্বয়ং সাহিত্য পাতার সম্পাদকের হাতে লেখা চিঠি এবং আরও বেশি বেশি লেখা পাঠানোর অনুরোধ। যা এই লেখককে আরেক রকমের গ্যাঞ্জামে ফেলে দেয়। সেলিমের চাচাতো ভাইয়ের মামাতো বোনের বান্ধবী হচ্ছে সেফালি। আত্মীয় দূরের হলেও পরিবারের যোগাযোগ অনেক দৃঢ়, সেই সুবাদে এই দুই পরিবারের মধ্যে আসা যাওয়া প্রায়শই হয়ে থাকে এবং এমন করেই সেলিমের প্রেম শুরু হয় সেফালির প্রতি, তাদের আর দোষ কী— এই রকম বয়সে প্রেম করাটা স্বাভাবিক বলে বর্ণনা করে গল্পের লেখক। মোহাম্মদ সেলিমের এইটাই একমাত্র এবং প্রথম প্রেম। কারণ হিসেবে বলা যায় যে, সেলিমকে কোনো মেয়ে পছন্দ করে না কিংবা সেলিম মোহাম্মদ সেই পছন্দের বিষয়টা বোঝে না অথবা প্রকৃত পক্ষে এই সেফালি বেগমকে ছাড়া আর কাউকে সেলিম ভাবতেই পারে না। এই না ভাবতে পারাটা এমনি এমনি হয় নাই, দুই পরিবারের মধ্যে বন্ধুত্বসুলভ আচরণ বিরাজ করায় সেলিম এবং সেফালি বেগম কাছাকাছি থাকার এবং সময় কাটানোর অনেক সময় পাইছে; পাড়ার লোকে কয় এইটা পরিবারের চালাকি! ওরা ইচ্ছা কইরা এইটা করছে, পরিবার নাকি চাইতো ওদের মধ্যে একটা বিবাহ হোক। তারও অনেক পরে, আরো অনেক সময় কেটে যাবার পর, সেলিম মোহাম্মদ সেফালিকে নিয়া বেড়াইতে যায়, চিনা বাদাম খায়, জলপাই কিংবা কূল বড়ই খায় আর খায় সেভেন আপ। সেফালি, সেলিমকে ভাই ভাই বলিয়া ডাকে, তাতে মাঝে মাঝে সেলিম বলে, ভাইয়া বলার দরকার কী? এইভাবে প্রেমের শুরু হয় মোহাম্মদ সেলিম আর সেফালি বেগমের আর সেই সাথে আমরা ঢুকে যাই একটি জৈবিক চাহিদার গল্পে। যদিও আমাদের মূল গল্প একটি জৈবিক চাহিদা নয় কিংবা সেলিম ও সেফালি বেগমও নয়— আমাদের গল্প মজনু তালুকদারকে নিয়ে!

এক এক করে তিন, সাড়ে তিন বছরের প্রেম সেফালির আর সেলিমের। এর মধ্যে নানান ধরনের বাধা আর যন্ত্রণা সইতে হয় সেলিমকে। সেলিম জানে ফুল চাইলে কাঁটা লাগবেই; এই কারণেই মুখ বুঝে সহ্য করেছে ছোট, বড়, অহেতুক, যৌক্তিক আর অযৌক্তিক সকল ঝামেলা। বস্তুত মোহাম্মদ সেলিম এই প্রথম প্রেমের প্রকৃত সুখ অনুভব করছে আর সেফালির সাথে এই বিষয়ে আলোচনায় সেফালি এমন করেই পাশ কাটাইয়া এমনভাবে নিজের নাক মুখ লজ্জায় লাল করিয়া ফেলে তাতে সেলিম নিজেই অপরাধবোধে পড়ে যায়। ফলে সেলিম নিজের মুখে সহস্রবার সেফালিকে আই লাভ ইউ
বলিলেও প্রতিউত্তরে সেফালির মুখ থেকে সেলিম কোনো দিন আই লাভ ইউ টু শোনে নাই। সেলিম মনে মনে হাসে; লজ্জা নারীর ভূষণ, প্রেমের বয়স আরেকটু হলেই হয়তো নিশ্চিত সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু সব কিছু ঠিকঠাক আর হলো না যখন মজনু তালুকদারের বন্ধু জালাল উদ্দিনের আবির্ভাব হয় দৃশ্যে।

জালাল কথা বলে না, চুপচাপ ব্যাপক চাপ নিয়ে রাগি-রাগি চোখে মজনুর দিকে তাকিয়ে থাকে আর মজনু বলে আমি কী করছি? আমার কী দোষ বল তুই? জালাল বলে হারামজাদা এই গল্প তুই পত্রিকায় ছাপাইছস কেন? মজনু বলে পত্রিকাওয়ালারা চাইলে আমি কী করমু? জালাল বলে এইটা কি আমি তোরে শিখাইয়া দিমু? তুই এইটা কী করছস? মজনু বলে পত্রিকা থাইকা অগ্রিম টাকাসহ চিঠি আসলে আমি কী করমু?

আসলেই সেলিমের আর কিছুই করার ছিল না, শুধু সেফালিকে একটা চুমু দিতে চাইছিল; জৈবিক চাহিদা বলে কথা। কিন্তু সেফালি কী করে একটা পরপুরুষকে চুমু খায় এই প্রশ্ন হয়তো সেফালির কাছে তখন প্রকট হয়ে দাঁড়ায়, ফলে আপাতত সেলিমকে চুমু বিষয়ক অভিজ্ঞতা থেকে বিরত থাকতে হয়। এই ঘটনার মাধ্যমে সেফালির প্রতি একই সাথে রাগ এবং ক্ষোভ তৈরি হয় সেলিমের, এবং সেই সাথে সেফালির ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে মোহাম্মদ সেলিম আরও বেশি বেশি প্রেমে পড়ে যায় সেফালি বেগমের। প্রেম চলতে থাকে। আর সম্পর্কে ফাটল ধরে মজনু আর জালালের। জালাল বলে প্রথমটা হইছে ভালো কথা কিন্তু পরে আবার দিলি ক্যান? মজনু কয় বাজারে চাহিদা থাকলে না দিয়া উপায় আছে?

উপায়-অন্ত না পাইয়া মোহাম্মদ সেলিম একদিন সেফালির বাড়িত্‌ যায়, সেফালির বাড়িতে কেউ ছিলও না; সেফালি মুরগিরে খাওন খাওয়াইতেছিল। সেলিম চুপি চুপি সেফালির পিছনে যাইয়া তারে জড়াইয়া ধরে আর বলে সেফু আমার সেফু। সেফালি কোনো রকমে ছাড়াইয়া দেয় সেলিমের হাত। সেলিমরে কয়, এতো অস্থির কেন? লোকে দেখলে কইবো কী? সেলিম কয় জৈবিক চাহিদা, করমু কী? করার আরো অনেক কিছুই ছিল; জালাল মজনুরে বোঝায়। জালাল কয় মজনু তোর নিয়ত ভালো না। তুই এখনই সব খুইলা বল লোকজনরে। মজনু কয় এখন এতো সাহস তুই কই পাইলি? এতো দিন কই ছিল এই সাহস? একা বাড়িতে সাহস দেখাইয়া কোনো লাভ হইলো না সেলিমের, এইবার সাহস কইরা বাড়িতে জানাইলোও সেলিম— ‘আমি সেফালিরে বিয়া করমু’। তারপরে ঘটনাটা আরো অনেক বড় কিন্তু এই গল্প যেহেতু মজনুর গল্প ফলে সেলিম আর সেফালির গল্পটা না জানলেও কোনো দোষ নাই।

সেফালির বিয়ের কথা ঠিক হইলে সেফালি বাড়ি ছাইড়া পালাইয়া যায়। সেলিম মনে দুঃখ পাইলো কিন্তু সেফালিরে ভুলে গেল না। সেফালির সন্ধানে সে শহর থেকে শহরে ঘুরে বেড়ায়। তবুও মজনু আর জালালের সমস্যা সমাধান হয় না। তারা দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসে। তর্ক এবং সমঝোতায় আসে। কিন্তু সেলিম আর সেফালির সমঝোতা আর হয় না। সমঝোতা করে নেয় সেফালি আর শরিফা। শরিফা সেফালির পুরানো স্কুল বান্ধবী। সেলিম বোঝে না কী করে সেলিমের স্থান দখল করে নিতে পারে শরিফা। জালালকে বোঝাতে থাকে মজনু। মজনুকে বোঝায় জালাল, বলে, তার খ্যাতির নেশায় পাইছে। একটি জৈবিক চাহিদার গল্পের লেখক মজনু তালুকদার, তাই মজনু চায় এই গল্পের লেখক মজনু তালুকদারই থাকবে। যেহেতু জালাল এই গল্পের লেখক হতে পারবে না আর কোনোদিন সেইজন্য মজনু এই গল্প অন্য পত্রিকায় ছাপতে দিছিল নিজের নামে; তাছাড়া পত্রিকাওয়ালা অগ্রিম টাকাসহ চিঠি পাঠালে মজনু কী করবে? যদিও একটি জৈবিক চাহিদার গল্পের প্রকৃত লেখক জালাল সরকার। ফলে এই যে সেলিম মোহাম্মদ আর সেফালি বেগমের গল্প, এইটা হতে পারতো কোনো এক কঠিন প্রেম কাহিনীর গল্প, হয়ে উঠতে পারতো কোনো সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনে গল্প কিংবা হয়ে উঠতে পারতো এক নিছক অবুঝ প্রেম কাহিনী কিন্তু তা না হয়ে, বাজার চাহিদা প্রয়োজনে হয়ে গেল একটা সমকামিতার গল্প। আর এই জন্যই কি জালাল তার বন্ধু মজনুর নাম এবং ঠিকানার আশ্রয় নেয়?

এই ঘটনা যখন এলাকার লোকজনের কানে পৌঁছলো তখন তারা একটা বিচারের আসর বসালো। মজনু এবং জালাল দুজনকেই ডাকলো। সেই সাথে পূর্ব বাঘমারায় বসবাসকারী মর্জিনাকে ডেকে নিয়ে আসলো, মজির্নার সাথে ছিল তার স্কুল জীবনের বান্ধবী মিস বিউটি আক্তার এবং আরো অনেকেই। সেই বিচার আসর শুরু হইলো এবং বিচারকগণ মর্জিনারে জিজ্ঞেস করলো: জালাল মিয়ারে তুমি চিনো? দেখ তো এই পোলাটাই কি তোমারে ফোন কইরা ডিস্টার্ব দেয় নাকি? কলেজে আইতে যাইতে ডিস্টাব দিছে কুনো দিন?

মর্জিনা মুখ তুলে জনসম্মুখে তাকালো, জালাল আর মজনুরে দেখলো; সভা সম্মুখে মর্জিনা বইলা উঠলো, জালাল কোনটা? আমি তো শুধু মজনু ভাইয়াকে চিনি!

]]>