themesdealer domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/onlinebangla24/news17.onlinebangla24.com/wp-includes/functions.php on line 6131বগুড়া প্রতিদিনধি ঃ পূর্ব বগুড়ার সারিয়াকন্দির পর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে অব্যাহত ভাবে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি বৃদ্ধি সহ নদীতে সৃষ্টঘূর্নাবর্তের কারনে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি গ্রামে যমুনা পাড়ে নির্মাণাধীন ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে ধস্বের সৃষ্টি হয়েছে । শুরু হওয়া ধব্সের কারনে ইতিমধ্যে ৪০ মিটার অংশ ধসে গেছে।অভিযোগ উঠেছে দূনির্তী অনিয়ম এবং সময়মত কাজ না করার কারনে সারিয়াকন্দির পর ধুনটে তীর সংরক্ষন প্রকল্প হমকীর মুখে পড়তে যাচ্ছে । অভিযোগ উঠেছে, বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো ) এর কতিপয় উর্ধতন কর্মকর্তা ও তাদের নিয়োগ করা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অসাধু ঠিকাদারের দূর্নীতি ও অনিয়মের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সরকার ও স্থানীয় অসহায় ধুনটবাসী । এতে করে অসাধু বগুড়া পাউবোর কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার আগুল ফুলে কলা গাছ বনে গেলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা । ফলে সরকারের শত শত কোটি টাকা নদীর জলে ভেসে যাবার উপক্রম হয়েছে ।অন্যদিকে নদী তীর সংরক্ষন ও বন্যা নিয়ন্ত্রনে সরকারের মহতী উদ্যোগ ব্যার্থ হচ্ছে বারবার । স্থানীয় সূত্রে বলা হচ্ছে মঙ্গলবার বেলা পোন ১১টার দিকে এ ধসের ঘটনা ঘটে।পাউবোর একটি সূত্রে বলা হচ্ছে, গত কয়েক দিনে নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও গত ২৪ ঘন্টায় পানি বেড়েছে প্রায় ১২ সেন্টিমিটার । নদীতে সৃষ্ট শক্তিশালী স্রোতের কারনে এই ভাংগ সৃষ্টি হয় ।
প্রাপ্ত তথ্য মতে নদীর পানি এখনো বিপদ সীমার প্রায় ৫৮/৫৯ সেন্টিমিটার নিচু দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তার পরেও সময় পেয়েও কেন এ ভাংগ রোধ করা যায়নি বা করা হয়নি এ বিষয়টি রহস্যজনক । খোজ নিয়ে জানা গেছে , নদী ভাঙনরোধে গত ৬ মাস ধরে ভান্ডারবাড়ি গ্রামে ৬শত মিটার দৈর্ঘ্যের নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ চলছে । কিন্তু সে কাজ গত ৬মাসেও শেষ হয়নি । সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবী করা হয়েছে ৭৫ থেকে প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে বাকী রয়েছে অল্প । অর্থাৎ কাজ এখনো শেষ হয়নি ।
এমত্ববস্থায় মঙ্গলবার প্রকল্পের ৬শত মিটারের মাঝামাঝি স্থান থেকে ৪০ মিটার অংশ নদীতে ধসে যায়। ফলে পাউবো কর্তৃপক্ষ জরুরিভাবে সেখানে সিসি ব্লক ফেলে ধস ঠেকানোর চেষ্টা করছে।অর্থাৎ এখানেও সীমাহিন দূর্নীতি চলছে হরহামেশা ।
পাউবো ও তাদের কতিপয় চিহ্নিত ঠিকাদার কাজ করেছে এবং করছেন পুরোদমে। কি কাজ করছেন তারা ? প্রশ্ন সকলের । যমুনা নদীর ভাঙ্গন ঠেকাতে ভরা নদীতে ফেলা হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সিসি ব্লক ও বালুর বস্তা।ঠিক কোথায় কি খরচ হচ্ছে? লিখা হচ্ছে শুধু কাগজে কলমে।
ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল সহ সচেতন এলাকাবাসীর দাবী, সীমাহীন দূর্নীতি ,সেচ্ছাচারিতা এবং অনিয়মের মেলা বসেছে এখানে । যে কারনে অতিনিু মানের কাজের কারণেই বাঁধ ধসে গেছে। খোজ করে জানা গেছে ,জিও টেক্সের নিচে বালুর পরিবর্তে মাটি ফেলে স্লোপ করা হয়। এ কারণে পানিতে মাটি গলে জিও টেক্সের নিচে গর্তের সৃষ্টি হয়ে ধস দেখা দেয়। এছাড়া জিও টেক্সের ওপর ছোট আকারের সিসি ব্লক বসানোয় প্রবল স্রোতে ছোট আকারের সিসি ব্লক ভাটির দিকে ভেসে গেছে সংশ্ষ্টি ঠিকাদারদের কারিশমায় । গুরুত্বর অভিযোগ উঠেছে ,বিষয়টি পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বার বার বলেও কাজ হয়নি। অথাৎ এখানে পাউবো তাদের চোখ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। এ বিষয়ে বগুড়া পাউবোর সংশ্লিষ্ট একটি দায়িত্বশলের দাবী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। প্রকৃতির নিয়মেই যমুনা নদীতে ধস দেখা দিয়েছে।
এবিষয়ে খোজ করে জানা গেছে ,গত ৬ মাস ধরে এবং শুস্ক মৌসুমের পরিবর্তে ভরা বর্ষায় নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে বালুর বস্তা সহায়ক হবেনা সে বিষয়টি জানার পরও বগুড়া পাউবোর দূর্নীতিবাজ দায়িত্বশীলদের এ বিষয়ে কোন দায়িত্তের কথা মনে আসেনি ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত এপ্রিল মাসে ধুনটের ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের কৈয়াগাড়ি থেকে বানিয়াযান স্পার পর্যন্ত প্রায় ২কিলোমিটার এলাকায় যমুনা নদীর ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়। অব্যাহত নদী ভাঙ্গনে কৈয়াগাড়ি গ্রামের শাহ জামাল, ইমান আলী জহুরুল ইসলাম , ইয়াকুব মাষ্টার ও বরিতলী গ্রামের সইমুদ্দিন, আব্দুস ছাত্তার সহ আশপাশের গ্রামের অন্তত ঃ ১০টি ঘরবাড়ি ক্ষেতের ফসল সহ কয়েক একর আবাদী জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি দায়িত্বশীল জানান ,উপজেলার কৈয়াগাড়ি থেকে বানিয়াযান স্পার পর্যন্ত ভাঙ্গনকবলিত ২ কিলোমিটারের মধ্যে এক হাজার মিটার নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে জরুরী ভিত্তিতে শুধু মাত্র বালিভর্তি জিওটক্সে ব্যাগ ফেলার জন্য ৮কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
প্রতিবারের মত এবারেও বহুল বিতর্কিত কয়েকজন ঠিকাদার রয়েছেন যারা এখানে বছরের পর বছর মাসের পর কাছে করে শত শত কোটি টাকা পকেটে তুলেছেন তারাই আবারো এই কাজে ঠিকাদারী কাজে নিয়োগ পেয়েছেন । এদের মধ্যে আছেন .সরকারী দলের লিয়াকত আ্রলী ,তাইজুল ইসলাম, শাহরিয়ার হোসেন ও টিপু সুলতান নামের ৪জন ঠিকাদার ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে নিয়োজিত ৪জন ঠিকাদারেরা তাদের মধ্যে যোগ সাজস করে বেশ কিছু কাজ করলেও বিভিন্ন তাল বাহানায় কাজে তারাই আবার তালবাহানা শুরু করে। ফলে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় যমুনা নদীতে পানি বৃদ্দি পেয়ে নদী ভরে ওঠে এবং ভাঙনও বৃদ্ধি পায়।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায় , বর্ষার কারনে যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মোটা বালু সংকট রয়েছে ফলে নদীর পুর্ব পরের কয়েক কিলোমিটার দুরের চর থেকে কাজের অযোগ্য বিট বালু এনে ভরা নদীতে বস্তা ফেলা হচ্ছে। ফলে সারিয়াকান্দর মত ধুনটেও নদী তীর সংরক্ষনের কাজ ও কাজের মান নিয়ে জোরালো প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।