themesdealer domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/onlinebangla24/news17.onlinebangla24.com/wp-includes/functions.php on line 6131নওগাঁ সংবাদদাতা ঃ নওগাঁর মহাদেবপুরে গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে এক মুক্তিযোদ্ধার ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের সম্পদ মাত্র ৪৩ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সালাউদ্দীন আহম্মেদ সবুজ নামে এক ব্যবসায়ী গত ২ আগষ্ট প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ এনে নওগাঁর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার খোর্দ্দ নারায়নপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অবঃ) আব্দুল জব্বার ২০০২ সালে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেসার্স কল্পনা চাউল কল পরিচালনার জন্য উপজেলা সদরে অবস্থিত আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক মহাদেবপুর শাখায় তার উপজেলা সদরের বাসষ্ট্যান্ড এলাকার একটি পাকা বাসা, একটি চাউল কল এবং ফসলি জমি মর্গেজ রেখে ৩৮ লাখ ৬৮ হাজার ৮৬৩ টাকা সিসি ঋন গ্রহন করেন। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের মৃত্যুর পর আইনগতভাবে তার স্ত্রী ও সন্তানদের ঋন পরিশোধের সুযোগ না দিয়ে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক মহাদেবপুর শাখার ব্যবস্থাপক রবিউল আলম গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে নাম সর্বস্ব একটি পত্রিকায় গত ৪ জুন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গোপনে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের ওই সব মর্গেজ দেয়া সম্পত্তি মাত্র ৪৩ লাখ টাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী চাউল কল মালিক ওসমান গনির নামে গত ২৯ জুলাই মহাদেবপুর সাব-রেজিঃ অফিসে গিয়ে রেজিষ্ট্রেরী করে দেয় বলে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের ছেলে জয়নাল আবেদিন অভিযোগ করেন।
এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা চাউল কল মালিক গ্র“পের সাধারন সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ব্যবস্থাপক রবিউল আলমের সাথে কথা বলে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সিসি ঋনের টাকা পরিশোধ করার জন্য সম্প্রতি সাড়ে ৪ লাখ টাকা এ ব্যাংকে জমা দেয়া হয়। এরপরেও যথাযথভাবে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরন ছাড়াই ব্যাংক ম্যানেজার এ সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়ে আইনের প্রতি অবজ্ঞা করেছেন। এদিকে ঋন আদায়ের নামে সব সম্পত্তি বিক্রি করে দেয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি বসবাসের বাড়ি এবং সম্পত্তি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তিনি আরো বলেন, শুধু তাই নয়, এ রকম একই ঘটনায় ব্যাবসায়ী সালাউদ্দীন আহম্মেদ সবুজ ব্যাংক ব্যাবস্থাপক রবিউল আলমের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে গত ২ আগষ্ট বাদী হয়ে নওগাঁর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে অর্থ আত্মসাৎ এর মামলা দায়ের করেছেন।
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম জানান, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ঋন পরিশোধ করার জন্য যে টাকার প্রয়োজন সে টাকা শুধু একটি রাইস মিল বিক্রি করলেই শোধ করা যাবে। আমরা সে ভাবেই ব্যাংকের টাকা পরিশোধের প্রস্তুতি নিয়ে প্রায় ২৭ লাখ টাকা যোগাড় করেছিলাম। কিন্তু ব্যাংক ম্যানেজার রবিউল আলম ধুরন্দর ব্যবসায়ী ওসমান গনির কাছ থেকে মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা নিয়ে তার কাছে পানির দামে আমাদের সব সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়ে আমাদেরকে পথে বসিয়েছে। তিনি তার মৃত মুক্তিযোদ্ধা স্বামীর সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
এদিকে বিশিষ্ট সালাউদ্দীন আহম্মেদ সবুজ অভিযোগে বলেন, উপজেলা সদরের ফাজিলপুর এলাকার মেসার্স সাহারা অটো চাউল কলের মালিক তিনি। তিনি আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংকের মহাদেবপুর শাখা থেকে প্লেজ ঋন নিয়ে ১৮ হাজার ৩ শত বস্তা স্বর্ণা ধান ক্রয় করে তার নিজস্ব গুদামে রাখেন। সম্প্রতি প্লেজ ঋনদাতা প্রতিষ্ঠান আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংকের মহাদেবপুর শাখা ব্যাবস্থাপক রবিউল আলম তাকে ধান বিক্রি করে প্লেজ ঋন পরিশোধের তাগাদা দেন। সালাউদ্দীন আহম্মেদ সবুজ কয়েক দিন সময় প্রার্থনা করলে ব্যাংকের শাখা ব্যাবস্থাপক রবিউল আলম সবুজকে সময় না দিয়ে থানা পুলিশের সহায়তায় গুদামের তালা খুলে গত ২৮ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত গুদামে সংরক্ষন করা সম্পুর্ণ ধান স্থানীয় এক বয়লার ব্যাবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন। বর্তমানে বাজারে প্রতি মন স্বর্ণা ধান ৮২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ হিসেবে ১৮ হাজার ৩ শত বস্তায় থাকা ৩৬ হাজার ৬ শত মন ধানের দাম ৩ কোটি ১ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা হলেও ব্যাংক কর্মকর্তা রবিউল আলম তাকে মাত্র ১৫৫ টাকা মন দরে ধান বিক্রির হিসাব দিয়ে ব্যাংক এ্যাকাউন্টে মাত্র ৫৭ লক্ষ ৬ হাজার ১ শত ৩৫ টাকা জমা দেখিয়েছেন। এর ফলে ব্যাংক ব্যাবস্থাপক রবিউল আলম তার ২ কোটি ৪৪ লক্ষ ৮৮ হাজার ৮ শত ৬৫ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে তিনি বাদী হয়ে গত ২ আগষ্ট নওগাঁর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ব্যাংক ব্যাবস্থাপক রবিউল আলম ও গুদামের দারোয়ান হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ এর একটি মামলা দায়ের করেছেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নীলা কর্মকার মামলাটি আমলে নিয়ে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে এফআইআর হিসেবে গ্রহন করার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক মহাদেবপুর শাখার ব্যবস্থাপক রবিউল আলমের সাথে গত মঙ্গলবার দুপুর ২টা ১০মিনিটে মোবাইল ফোনে কথা বলা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি নন। তবে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সকল কাজ বিধি সম্মতভাবে করা