themesdealer domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/onlinebangla24/news17.onlinebangla24.com/wp-includes/functions.php on line 6131চাদপুর: গ্রাহকদের প্রায় ১০ কোটি টাকা নিয়ে মতলব উত্তর উপজেলায় গ্রামীণ কো-অপারেটিভ মাল্টিপারপাস সোসাইটি উধাও হয়ে গেছে। ফলে উপজেলার ছেংগারচর বাজারসহ দেড় সহস্রাধিক গ্রাহক তাদের ৫ বছরের সঞ্চয় হারিয়ে পথে বসেছেন।
প্রতারকরা সটকে পড়ে তাদের অফিসগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অংকের এসব টাকা সংগ্রহ করেছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।
মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর বাজারে গ্রামীণ কো-অপারেটিভ মাল্টিপারপাস সোসাইটি নামে ৫ বছর আগে জনতা ব্যাংক ভবনের তৃতীয় তলায় ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম চালু করে। যা পরবর্তীতে ২০১৩ সাল থেকে মতলব উত্তর গ্রামীণ সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি নামে কার্যক্রম চালায়। সমিতির সাইনবোর্ডে নিবন্ধন-২২৪ চাঁদ/১৩, ২২ মে ২০১৩ইং, রেজিঃ ৫৯৩, তারিখ-২৪ ডিসেম্বর ২০০৩ইং লেখা রয়েছে।
২৩ নভেম্বর ভোরে সোসাইটির ছেংগারচর অফিসে তালা দিয়ে কর্মকর্তারা পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানায়।
এদিকে গ্রামীণ কো-অপারেটিভ মাল্টিপারপাস সোসাইটির পাস বইয়ে সরকার অনুমোদিত কোনো রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং সংস্থার কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যায়নি। প্রতারিত গ্রাহকরা কোথায় গিয়ে টাকা চাইবে তার কোনো উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না।
গ্রামীণ কো-অপারেটিভ মাল্টিপারপাস সোসাইটির চেয়ারম্যান ওয়ালিউল্লাহ মাসুদ কচুয়া উপজেলার বিতারা গ্রামের মোল্লা বাড়ির বাসিন্দা। তার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তা’ বন্ধ পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, ২০১০ সালে ছেংগারচর বাজারে গ্রামীণ কো-অপারেটিভ নামের এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম শুরু করে। এ সময়ের মধ্যে গ্রাহকদের কাছ থেকে সঞ্চয় ও এফডিআর বাবদ প্রায় ১০ কোটি টাকা আমানত গ্রহণ করে।
এ ব্যাপারে সমিতির গ্রাহক জয় মিয়া জানান, তিনি ২০১২ সালে ৫ বছর মেয়াদী ডিপিএস করেন। ডিপিএসে জমা করা টাকার পরিমাণ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আগামি সাপ্তাহে মেয়াদ শেষে তার জমা করা টাকা দেয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই ভুয়া কোম্পানির কর্মকর্তারা উধাও হয়ে যায়।
জয় মিয়ার মত আমিনুল হক, ইসমাইল, মোহাম্মদ আলী, আলাউদ্দিন, তবদিল, শেখ ফরিদসহ আরও অনেক প্রতারিত গ্রাহক অর্থ হারিয়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার কথা জানান এ প্রতিবেদকের কাছে। অফিস তালা দিয়ে চলে যাওয়ার খবর চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রাহকরা এসে ভিড় জমায়।
ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন জানান, দৈনিক কিস্তিতে গ্রামীণ লোন দিত। কয়েক মাস ধরে তারা লোন দেয়া বন্ধ করে দেয়। আমাদের কাছ থেকে সঞ্চয় নিয়েছে কিন্তু কোনো লোন দেয়নি।
এদিকে গ্রামীণ কো-অপারেটিভ সোসাইটির ভাড়া বাড়ির মালিক মো. সাধন সরকার জানান, ২০১২ সালে ৫ বছরের জন্য আমার বাড়ি ভাড়া নেয়। আমি যথাযথ নিয়ম মেনে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে তাদের কাছে ভাড়া দেই। কিন্তু ২৩ নভেম্বর সকালে গ্রাহকরা এসে অফিস বন্ধ দেখে আমাকে বিষয়টি জানায়।
এ শাখার ব্যবস্থাপক মকবুল হোসেনের মুঠোফোনে (০১৭৪০-৯৬৩৩১৩) কয়েকবার কথা বলার জন্য কল করলেও ব্যস্ত রয়েছে বলে জানায়। তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মুখলেছুর রহমান বলেন, মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি সমবায় অধিদপ্তারের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান। তাদের আর্থিক হিসাব আমাদের কাছে আছে। তাদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানটির বাইরে যদি কর্মকর্তারা আর্থিক লেনদেন করে থাকেন সেটির হিসাব আমাদের কাছে নেই।
মুখলেছুর রহমান আরো বলেন, উধাও হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। বিল্ডিং মালিকের সাথে কথা হয়েছে, যেন অফিসের কাগজপত্র সংরক্ষণ করার জন্য। তাদের বিভিন্ন রেজিস্টার রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকৃত লেনদেনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ইতিপূর্বে গ্রামীণ কো-অপারেটিভ মাল্টিপারপাস সোসাইটি নামের এই প্রতিষ্ঠানটি কচুয়া, হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলায় তাদের কার্যালয় গুটিয়ে নেয়। প্রতিটি উপজেলাতেই গ্রাহকদের ৩ থেকে ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা।