themesdealer domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/onlinebangla24/news17.onlinebangla24.com/wp-includes/functions.php on line 6131শরণখোলা, বাগেরহাট সংবাদদাতা ঃ বাগেরহাটের শরণখোলায় এবছর আমন চাষে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। লাগাতার বৃষ্টিপাতের ফলে চাষের জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় জমি চাষাবাদ শুরু করতে পারছেন না কৃষকরা। উপজেলার অসংখ্য চাষী এ পর্যন্ত আমন মৌসুমের বীজতলা তৈরি করতে পারেনি। দ্রুত আবাদি জমির পানি নিষ্কাশন করা না হলে এবছর উপজলার সর্বত্রই আমনের চারা সংকট প্রকট আকার ধারণ করবে। এ কারণে আমন চাষও ব্যাহত হবে মারাত্মকভাবে। এর ফলে, দেখা দিতে পারে চরম খাদ্য সংকট। এমন আশঙ্কায় উপজেলার প্রায় ১২ হাজার চাষী এখন দিশে হারা হয়ে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এপর্যন্ত চাষীরা দুই দফা বীজতলা তৈরীর চেষ্টা করে অনেকে ব্যর্থ হয়েছেন। মাস খানের আগে প্রথম ধাপে চাষীরা জমিতে অঙ্কুরিত বীজ ছিটানোর পর পরই বৃষ্টি শুরু হয়। দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকায় সেই বীজ অধিকাংশ পঁচে নষ্ট হয়ে যায়। পরে একটু খরা দিলে আবার আশায় বুক বেধে তারা জমিতে বীজ ফেলেন। এভাবে দুই দফাই তাদের চেষ্টা ব্যাহত হয়। এখন কোনো চাষীর ঘরেই আর অবশিষ্ট বীজ ধান নেই। সরজমিন ঘুরে জলাবদ্ধতার এমন ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। জমিতে কোথাও কোমর সমান কোথাও হাঁটু সমান পানি জমে আছে। থৈ থৈ করছে মাঠের পর মাঠ। কৃষকের মুখে হাসি নেই। অনেকে বীজ জাগ দিয়ে রেখেছেন কিন্তু জমিতে ফেলতে পারছেন না। বীজের অঙ্কুর নষ্ট হয়ে অকেজো হয়ে গেছে।
জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের শরণখোলা অংশের বেড়ি বাঁধে ছোটবড়ো ২০টি স্লুইজ গেট রয়েছে। এই গেটগুলো রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে দীর্ঘদিন অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তা ছাড়া উপজেলা সদর রায়েন্দা বান্দাঘাটা এলাকার প্রধান গেটটি-ই এখন কৃষকদের মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এই গেটের চারটি কপাটের দুটিই নষ্ট। তা ছাড়া পাউবোর কোনো কর্মী এখানে নিয়োজিত না থাকায় স্থানীয়রা তাদের ইচ্ছেমতো গেট থেকে পানি উঠানামা করিয়ে সেখানে জাল পেতে মাছ ধরে থাকে। ফলে ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। যা কৃষকদের কোনো কাজেই আসেনা।
পূর্ব রাজাপু গ্রামের চাষী মাস্টার হাফিজুর রহমান গতকাল শুক্রবার জানায়, তাদের এলাকার চার ভাগের তিন ভাগ বীজ নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে বীজ ফেলতে না পাড়লে জমি রোপণ করা যাবে না। আবারও বীজ ধান ক্রয় করে ফালানোর প্রস্ততি নিয়েছেন। দু-চারদিনের মধ্যে জমির পানি না সরলে বীজতলা তৈরীর সময়ও থাকবেনা। কদমতলা গ্রামের চাষী জামল তালুকদার, ইয়াকুব তালুকদার, রিয়াদুল হাওলাদারর, সোহরাব আকন, করিম হাওলাদার ও নান্না মিয়া সহ অনেকে জানায়, পানি নিস্কাশনের একমাত্র বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী স্লইজ গেটটি খামখেয়ালি ভাবে হাকিম শিকদার ও তার পুত্ররা বন্ধ করে রাখেন। যার কারণে পানি নামতে পারেন না। চাষীরা গেটটি নিয়মিত খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে। খাদা গ্রামের ফুল মিয়া আকন ও আ. কাদের আকন মাঠে চারা তৈরি করতে না পেরে তাদের বসত বাড়ীর সবজী ক্ষেত নষ্ট করে সেখানে বীজতলা তৈরি করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌমিত্র সরকার বলেন, চলতি আমন মৌসুমে ৬৯ হাজার ৩৭৫ বিঘা জমি চষাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। এজন্য ৪,৫৩০ বিঘা জমিতে ১১,২৫০ মন বীজ ধান ফেলা হয়েছে। কিন্তু লাগাতার বৃষ্টির কারণে ১,২৫০ মন ধানের বীজ নষ্ট হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেসি বীজতলা নষ্ট হয়েছে ধানসাগর ইউনিয়নে। তিনি আরো বলেন উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের উপজেলার হাটবাজারগুলোতে হাট সভা ও বাড়িতে বাড়িতে উঠান বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা বৈঠকের মাধমে কৃষকদেরকে বাড়ির আঙিনায়, স্কুল মাঠে ও উঁচু ভিটায় বীজতলা তৈরীর পরামর্শ দিচ্ছেন। এভাবে বীজতলা তৈরি করতে পারলে এবং মাঠের পানি দ্রুত অপসারণ করা গেলে সংকট অনেকটা কেটে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ অতুল ম-ল জানান, জলাবদ্ধতা নিরশনের জন্য সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। কৃষকদের দুর্দশার কথা জেলা মিটিংয়েও বলা হয়েছে। কিন্তু গেট পরিচালনার কোনো সুষ্ঠু ব্যবস্থা করা হয়নি। এখন মোবাইল কোর্ট করা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছিনা।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈনউদ্দিন জানান, তাদের জনবল সংকটের কারণে সব সময় সঠিকভাবে কাজ করা সম্ভব হয়না। আমন মৌসুমে যাতে ফসলি জমির পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা যায় সে ব্যবস্থা করা হবে।